জগন্নাথ মন্দির, দিঘা, পশ্চিমবঙ্গ

HomeUncategorizedদেবস্নান পূর্ণিমা ২০২৬: জগন্নাথ দেবের মহাস্নান, অনসর কাল ও রথযাত্রার পূর্ণাঙ্গ দিনপঞ্জি

দেবস্নান পূর্ণিমা ২০২৬: জগন্নাথ দেবের মহাস্নান, অনসর কাল ও রথযাত্রার পূর্ণাঙ্গ দিনপঞ্জি

দেবস্নান পূর্ণিমা ২০২৬: জগন্নাথ দেবের মহাস্নান ও রথযাত্রার শুভ সূচনা

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশেষ দিনে ওড়িশার পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে মহাসমারোহে পালিত হয় পবিত্র ‘দেবস্নান পূর্ণিমা’ (Debsnan Purnima)। এটি কেবল একটি স্নানযাত্রা নয়, বরং বিশ্বপ্রসিদ্ধ জগন্নাথ রথযাত্রার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার।

মহাস্নান ও ১০৮ কলস জলের রহস্য

শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে, বছরের এই একটি দিনই মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিশেষ স্নান মণ্ডপে অধিষ্ঠিত করা হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ১০৮টি পবিত্র ঘড়ার জলে তাঁদের অভিষেক সম্পন্ন হয়। হিন্দু ধর্মে ‘১০৮’ সংখ্যাটির গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে, যা জপমালা থেকে শুরু করে উপনিষদের সংখ্যাতত্ত্বে প্রতিফলিত হয়। এই পবিত্র জল আনা হয় মন্দির চত্বরের উত্তর দিকে অবস্থিত সুপ্রাচীন ‘সোনার কুয়ো’ থেকে, যা সারা বছর বন্ধ থাকে।

সোনার কুয়োর অলৌকিক ঐতিহ্য

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, পরম বৈষ্ণব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই বিশেষ কুয়োটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। শোনা যায়, নির্মাণের সময় সোনার শিকল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে এটি ‘সোনার কুয়ো’ নামে পরিচিত। প্রায় ১৫-১৭ জন সেবাইত অত্যন্ত গোপনীয়তা ও বিশেষ বিধি মেনে এখান থেকে জল তোলেন, যা বিগ্রহের স্নানে ব্যবহৃত হয়।

স্নানের পর কেন ‘অসুস্থ’ হন মহাপ্রভু? (অনসর কাল)

দেবস্নান পূর্ণিমার সবচেয়ে অনন্য ঐতিহ্য হলো মহাস্নানের পর মহাপ্রভুর ‘জ্বর’ আসা। ভক্তদের বিশ্বাস, সুশীতল ও ঔষধি মিশ্রিত জলে দীর্ঘক্ষণ স্নান করার ফলে ভগবান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতার কারণে আগামী ১৫ দিন তিনি মন্দিরের অভ্যন্তরে একান্তে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এই সময়কালকে শাস্ত্রে ‘অনসর কাল’ (Anasara Period) বলা হয়।

এই ১৫ দিন সাধারণ ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। এই সময়ে রাজবৈদ্য ও সেবাইতরা বিশেষ ভেষজ চিকিৎসা ও গোপন পূজার্চনার মাধ্যমে প্রভুর সেবা করেন। এরপর মহাপ্রভু যখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তখন তিনি ‘নবধৌবন বেশে’ ভক্তদের দর্শন দেন।

রথযাত্রা ২০২৬: একটি পূর্ণাঙ্গ দিনপঞ্জি

দেবস্নান পূর্ণিমার মাধ্যমেই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। মহাপ্রভুর সুস্থতার পর আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে বিশ্বপ্রসিদ্ধ জগন্নাথ রথযাত্রা শুরু হবে এবং এই উৎসব চলবে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত।

________

(সতর্কীকরণ: ধর্মীয় ও পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী এই তথ্যগুলি সাধারণ জ্ঞান ও লোকমান্যতার ভিত্তিতে রচিত।)

আরও

আরও পড়ুন